Showing posts with label গাছের গুনাবলী. Show all posts
Showing posts with label গাছের গুনাবলী. Show all posts

Friday, October 12, 2018

মেহেদি পাতার ঔষুধি গুনাবলি

শহর বা গ্রামে সাধারণত বেড়ার ধারে মেহেদি গাছ লাগানো হয়। এ ফুলের মৃদু সুবাশ একটা মত্ততা আনে। আমারা বেশি ভাল লোকেই জানি মেহেদি পাতা শুধু হাত সাজানো ও চুল কালার করতে ব্যবহার হয়। কিন্তু মেহেদি পাতার রয়েছে হাজারো ওষুধি গুনাবলী।

পায়োরিয়া রোগে :
মেহেদি পাতা তুলে এনে 3 কাপ পানি দিয়ে সিদ্ধ করতে বসান। আধা কাপ পানি অবশিষ্ট থাকতে নামিয়ে ছেকে নিয়ে, তার সাথে কিছুটা খয়ের গুড়া করে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। তারপর সেটা দাতের মাড়িতে লাগালে পায়োরিয়া  রোগ সেরে যাবে।

কানে পুঁজ হলে:
মেহেদি পাতার রস করে কানে 2 ফোটা করে কয়েকদিন দিলে কানের পুজ সেরে যায়।

চুল রং করতে:

মেহেদি প্রাকৃতিকভাবে রঙিন করে চুল। ধূসর চুল রং করতে ব্যবহৃত হয় মেহেদি। আবার কালো চুলের রং আরও কালো করতেও মেহেদির জুড়ি নেই।

চুলের গোড়া মজবুত করতে:

মেহেদি চুলের গোড়া শক্ত করে চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে। তবে খুব ঘন ঘন মেহেদি লাগাবেন না। এতে চুল রুক্ষ হয়ে যেতে পারে।

চুলের উজ্জ্বলতা বাড়াতে :
মেহেদি চুলে নিয়ে আসে জৌলুস। মেহেদির সঙ্গে ডিম ও তেল মিশিয়ে চুলে লাগান। আধা ঘণ্টা পর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। চুল হবে ঝলমলে ও সুন্দর।

মুখ ও গায়ের চামড়া কুচকালে :
যদি কারও গায়ের চামড়া অকালে কুচকে  যায় বা ঢিলে হয়ে ঝুলে যায়, সে  ক্ষেত্রে  ঘিয়ে মেহেদি পাতার রস মিশিয়ে গায়ে বা মুখে মাখলে এ দোষ থাকবে না।

কাঁধে ব্যথা হলে:
কাঁধে ব্যথা হলে বা বেদনা হলে মেহেদি পাতার রস নিয়ে সরিষার তেলে মিশিয়ে কাধে বেদনার স্থানে মালিশ করবেন। ব্যথা কমে যাবে।

চুল পড়লে :
মেহেদি পাতার রস ও একটি হরিতকী থেতো করে এক সাথে আধাপোয়া পানিতে অথবা 2 কাপ পানিতে সিদ্ধ করুন। সিকিকাপ পানি অবশিষ্ট থাকতে নামিয়ে ছেকে নিন। এই রস সপ্তাহে 2 দিন মাথায় মাখুন চুল পড়া বন্ধ হবে।

Tuesday, February 20, 2018

মুখের কালো দাগ দুর করার গাছান ঔষুধ

ছোট ছোট মুখের কালো দাগের কারণে অনেকই দেখতে ভালো দেখায় না। এসব কালো দাগ মুখ থেকে সহজে যায় না। অনেক দামি দামি ক্রিম ব্যবহার করে এর ফল ভাল পাওয়া যায় না। আজ আমি আপনাদের বলবো কিভাবে মুখের কালো দাগ দুর করবেন গাছান ঔষুধের মাধ্যমে। 

চন্দন কাঠ :  মুখের দাগ দুর করত চমৎকার কাজে দেয় চন্দন কাঠ। চন্দন কাঠ পানিতে বা গোলাপ জ্বলে মিশিয়ে ব্যবহার দুই সাপ্তাহ ব্যবহার করলে ভাল ফল পাওয়া যায়। 

আলু:  মুখের কালো দাগ দুর করতে আলু অসাধারণ ফল দেয়। আলুর রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে নিন। তার পর শুকিয়ে গেল পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দেখব খুব তাড়াতাড়ি মুখের কালো দাগ দুর হবে। 

হলুদ :  উজ্জ্বলতা বাড়াতে হলুদ একটি চমৎকার উপাদান। এক চামদ হলুদের গুড়া, সামান্য লেবুর রস ও দুধ মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে নিন। কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দু বার ব্যবহার করলে ভাল পাওয়া যাব। 

আনারস:  আনারস মুখের কালো দাগ দুর করতে ভাল ফল দেয়। আনারসের রস মুখে লাগিয়ে নিন। 20 মিনিট রাখার পর মুখ ভাল ভাবে ধুয়ে ফেলুন। কয়েকদিন ব্যবহারের করলে কার্যকরী ফল দেখতে পাবন। 

তরমুজ: এক টুকরা তরমুজের রস মুখের কালো দাগের উপর দুই তিন মিনিট ঘষতে থাকুন। সপ্তাহে দুই তিন বার ব্যবহারের ভাল ফল দেখতে পাবেন। 

শসা :  মুখের উজ্জবলতা ও আর্দ্রতা বজায় রাখতে শসা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। কয়েকটি শসার টুকরো নিয়ে একটি পেষ্ট তৈরি করে তাতে সামন্য মধু ভাল করে মিশিয়ে মুখে লাগান। কয়েকদিনের মধ্যে ভাল ফল পাবেন।

মধু ও দুধ: মধু ও দুধ এক সঙ্গে মিশিয়ে কাল দাগের উপর 10 মিনিট লাগিয়ে রাখুন। তারপর মুখ ভাল ভাবে ধুয়ে ফেলুন। কয়েক দিন ব্যবহারের ফলে মুখে কালো দাগ সম্পূর্ণ মুছে যাবে।

অ্যালোভেরা : এ্যালোভেরা রস মুখের দাগের উপর আলতো ভাবে মালিশ করুন। প্রতিদিন মালিশ করলে কিছু দিনের মধ্যেই মুখের কারো দাগ মুছে যাবে।


পোস্ট টি ভাল লাগলে শেয়ার করতে ভুলবেন না। 



Monday, June 30, 2014

কাঁঠালের গুনাবলী

কাঁঠালকে আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে পনস বলা হয়। অগ্রহয়ণ ও পৌষ মাসে এই গাছের ফুল ধরে। তারপর ফল হয়, জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মাসে ফল পাকে। কাঁঠালের সারা গায়ে কাটা হয়। কাঁঠালের সুগন্ধ বের হয় পাকলে। কাঁঠালের পাতা মূল, কাঠ ও ফল ওষুধে ব্যবহার করা হয়।
কাঁঠালের গুনাবলী : নিচে কাঠালের গুনাবলী আলোচনা করা হল।
কাঁঠাল




  1. অরুচিতে: পাকা কাঁঠালের রস 2 থেকে 3 চা-চামচ নিয়ে ওর সাথে সামান্য চিনি এবং অল্প মরিচের গুড়া মিশিয়ে কয়েকদিন খেলে অরুচি থাকবে না। চিনি না দিয়ে 4-5 চামচ দুধ দিয়ে খেলেও উপকার পাবেন। 
  2. দূর্বলতা দেখা দিলে: অনেক সময় ক্ষয়জনিত কোন কারণে দূর্বলতা দেখা দেয়। যে কোন কারণে দূর্বলতা দেখা দিলে, কাঠালের রস নিংড়ে 5 থেকে 6 চা-চামচ করে সকালে ও বিকালে কয়েকদিন খেলে দূর্বলতা কেটে যাবে। 
  3. পেশীর বাতে: কাঁঠালের ভিতরের শক্ত দন্ডটি অর্থাত যাকে আমরা কাঁঠালের ভূতি বলি ‍ও ফেলে দিই। সেটি ছোট ছোট করে কেটে 4-5 গ্রাম মাত্রায় নিয়ে দুই কাপ পানি দিয়ে সিদ্ধ করুন। 2-3 কাপ অবশিষ্ট থাকতে নামিয়ে ছেকে নিন। এবার ওটা 4 ভাগ করে সারাদিনে চারবার খেলে উপকার হয়। 
এখানে কাঁঠালের গুনাবলী খুব সংক্ষেপে আলোচনা করা হল। কাঠালের পরিচয় ও এর জাত সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন এখানে। 

Sunday, April 20, 2014

হলুদ দিয়ে রোগের চিকিৎসা

বিভিন্ন কাজে আমারা হলুদ ব্যবহার করে থাকি। বিশেষ করে রান্নার কাজে হলুদ এর চাহিদার শেষ নেই। কিন্তু অনেকেই জানিনা হলুদ দিয়ে বিভিন্ন চিকিৎসা হয়। উপকার হয় অনেক রোগের। আসুন আজ আপনাদের হলুদ এর গুনাবলী নিয়ে আলোচনা করি। হলুদ এর পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন।
বিভিন্ন চিকিৎসায় হলুদ এর ব্যবহার :
নিচে হলুদ এর গুনাবলী আলোচনা করা হল।

  1. মুখের লাবণ্য বাড়াতে : মুখের লাবণ্য বাড়াতে হলুদ এর জবাব নেই। কাঁচা হলুদ ও ভিজানো মসুর ডাল একত্রে বেটে তার সাথে দুধের সর মিশিয়ে মুখে মাখলে, মুখের লাবণ্য বৃদ্ধি পায়।

  2. দেহের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে : আগে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের তেল-হলুদ মাখিয়ে গোসল করানোর প্রথা ছিল। এতে দেহের উজ্জলতা বাড়ে। খোসপাসড়া চুলকানি প্রভৃতি চর্মরোগও হয় না এবং উজ্জ্বলতা বাড়ে।

  3. ক্রিমি রোগে : বয়স অনুযায়ী 15 তেকে 20 ফোটা কাচা হলুদ এর রস ছেকে তাতে অল্প লবণ মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খেলে, ক্রিমি নাশ হয়।

  4. গলা ধরে গেলে : চিৎকার, বক্তৃতা বা গান, যে কোনও কারণে গলা বসে গেলে হলুদগুড়া 2 গ্রাম পরিমাণে নিয়ে পানি মিশিয়ে তাতে চিনি দিয়ে শরবত করে একটু গরম হলুদে খেলে খুব উপকার হয়।

  5. তোতলামিতে : তাড়াতাড়ি কথা বলার অভ্যাসের জন্য যদি তোতলামি দেখা যায়, তাহলে কাঁচা হলুদ শুকিয়ে গুড়া করে 2 থেকে 3 গ্রাম পরিমাণে নিয়ে 1 চা-চামচ গাওয়া ঘিয়ে একটু ভেজে সেটাকে সারা দিনে 2-3 বার চেটে খাবেন, তোতলামি থাকবে না।

  6. লিভারের দোষ : লিভারের দোষ হলে সারাদেহে ফ্যাকাশে দেখায়, এ অবস্থা দেখা দিলে, শিশুদের  ক্ষেত্রে 5 থেকে 10 ফোটা পূর্ণ বয়স্কদের জন্য 1 চা-চামচ কাচা হলুদের রস একটু চিনি বা মধু মিশিয়ে নিয়মিত কিচুদিন খাবেন, লিভারের দোষ থাকবে না।

  7. মচকে গেলে : দেহেরে কোনও স্থান মচকে গিয়ে ব্যথা হলে বা ফুললে লবণ হলুদ আর চূর্ণ একসাথে মিশিয়ে গরম করে সেখানে লাগালে ব্যথা ও ফুলা কমে যায়।

  8. অ্যালার্জিতে : কোনও খাদ্য খেলে যদি দেহে অ্যালার্জি দেখা দেয অথ্যাৎ দেহ চুলকাতে থাকে, স্থানে-স্থানে লাল হয়ে ফুলে ওঠে ও  চাকা চাকা হয়ে যায়, তাহলে কাচা হলুদ শুকনা করে তার চার চামচ চূর্ণ, নিমপাতা চুর্ণ 1 চামচ ও শুকনা আমলকী চূর্ণ 3 চামচ এক সাথে মিশিয়ে একটি শিশিতে রেখে দিন। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এ ছুর্ণ মিশ্রণ 1 গ্রাম মাত্রায় পানিসহ খেলে অ্যালার্জি কমবে।

এছাড়াও হলুদের আরো অনেক গুনাবলী আছে। এখানে প্রয়োজনীয় কিছু গুনাবলী আলোচনা করা হল। আশা করি সকলের ভালো লাগবে।

Monday, March 24, 2014

শিমুল গাছের উপকারীতা

শিমুল গাছ কে আমরা অনেকেই অহেতু গাছ মনে করি। শিমুল গাছের গুনাবলী আমরা অনেকেই জানি না। জানি না শিমুল গাছ দিয়ে কি কি রোগের চিকিৎসা করা যায়। আজ আপনাদের শিমুল গাছের গুনাবলী নিয়ে আলোচনা করবো।


শিমুল গাছের পরিচয় : সাধারণ গ্রাম বাংলার শিমুল গাছ দেখা যায়। শিমুল গাছ বা শিমুল ফুল চেনে না এমন লোক অনেক কম আছে। শিমুল গাছের ইংরেজি নাম Silk Cotton । এটি উচচতা 15 থেকে 20 মিটার। শিমুল গাছ ছোট ছোট কাটা যুক্ত। শিমুল কাছের ফুল খুবই প্রসিদ্ধ আমাদের দেশে। শিমুল গাছ থেকে তুলাও হয়। আর বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন।



রোগের চিকিৎসায় শিমুলের ব্যবহার : বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় শিমুল গাছের ব্যবহার সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হল।

ফোড়া : ফোড়া হলে শিমুল গাছের ছাল ধুয়ে বেটে, ফোড়ার উপর প্রলেপ দিলে উপকার হয়।

য়ৌবনকালে শুক্রাল্পতায় : চারা শিমুলগাছের মূল বেটে 7 থেকে 10 গ্রাম নিয়ে তার সাথে একটু চিনি মিশিয়ে দু’বেলা খেলে শুক্রাল্পতা দুর হবে।

প্রৌঢ় অবস্থায় শুক্রাল্পতায় : চারা শিমুল গাছের নরম মূল চাকা-চাকা করে কেটে শুকিয়ে নিন। এবার ভালোভাবে চুর্ণ করে ছেকে একটা শিশিতে ভরে রাখুন। সে চুর্ণ দেড় থেকে দুগ্রাম মাত্রায় নিয়ে এককাপ দুধের সাথে খাবেন। এতে প্রচুর উপকার হবে।

প্রদরে : শিমুলের কচি মূল গাওয়া ঘিয়ে ভেজে নিন। নামাবার সময় তাতে সামান্য সৈন্ধব লবণ মিশিয়ে দিন। এবার দেড় গ্রাম মাত্রায় নিয়ে এটা দু’বেলা খাবেন। প্রদরে খুব উপকার হয়।

পোড়া ঘায়ে : শিমুল তুলা নিয়ে তাতে শিমুল গাছের ছাল অথ্যাৎ মোচরস দিয়ে ভিজিয়ে পোড়া ঘায়ে দিন, ঘা সেরে যাবে।

রক্ত আমাশয়ে : শিমুলের ছাল ‍চুর্ণ করে  এক থেকে দুই গ্রাম মাত্রায় নিয়ে, ছাগল দুধের সাথে মিশিয়ে দু বেলা খাওয়ালে উপকার হবে।

Friday, March 14, 2014

হাতিশুড়া গাছের উপকারীতা

আমারা অনেকেই হাতিশুড়া গাছের গুনাবলী জানি না। অনেকেই চিনিনা এই গাছ কে। আপনাদের কে হাতিশুড়া দিয়ে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার কথা জানাবো।

হাতিশুড়া গাছের পরিচয় : বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি গ্রাম অঞ্চলে হাতিশুড়া গাছ দেখা যায়। হাতিশুড়া বর্ষজীবি উদ্ভদ। লম্বায় এক থেকে দুই ফু পর্যন্ত বাড়ে। কান্ড ফাপা ও বেশ নরম। গাছের প্রায় সব শাখা খাড়া হয়ে থাকে। সাদা ছোট লোমে গাছ ঢাকা থাকে। পাতা দেখতে ডিম্বাকৃতি, আগা দিকটা ছোট। নিচের দিকে কোন লোম থাকে না। বৃন্তদেশ গোলাকার অথবা হৃদপিন্ডাকৃতি। পুষ্পদন্ড অনেকটা হাতির শুড়ের মত, সামনের দিকটা বাকানো। বাংলাদেশের সর্বত্রই পাওয়া যায় এই হাতিশুড়া।



বিভিন্ন চিকিৎসায় হাতিশুড়া : নিচে হাতিশুড়া গাছের উপকারীতা আলোচনা করা হল।

মাড়ির ঘায়ে: হাতিশুড়া গাছের পাতার রস সকালে এবং রাতে শোয়ার সময় প্রযোগ করলে তাড়াতাড়ি ক্ষত আরোগ্য লাভ করে।

চোখ ওঠায় : হাতিশুড়া গাছের পাতা ও কচি ডালের রস চোখে দিনে তিনবার করে প্রয়োগ করলে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। হাতিশুড়া চোখ ওঠার মহামুল্যবান ওষুধ।

বিছা ও বোলতা কামড়ালে : পাচ গ্রাম পাতার রস ও সমপরিমাণ রেড়ির তেল মিশিয়ে বিছা অথবা বোলতা কামড়ানোর স্থানে লাগালে যন্ত্রনায় আরাম হয়।

পাগলা কুকুরে কামড়ালে : পাগলা কুকুরে কামড়ালে হাতিশুড়া গাছের পাতার রস দশ গ্রাম পরিমাণ খাওয়ালে কুকুরের বিষ বিনষ্ট হয়।

ক্ষত ও ফোড়ায় : পোকা-মাকড়ের কামড়ে ক্ষতের সৃষ্টি হলে অথবা ফোড়া ফেটে যাবার পর ঘা শুকিয়ে যাবার জন্য হাতিশুড়া গাছের পাতার কচি ডালের রস প্রয়োগ করলে ঘা খুব তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়।

গর্মী ঘায়ে : হাতিশুড়া গাছের পাতা বেটে ঘায়ে দিলে ঘা শীঘ্র শুকিয়ে যায়।

সন্নিপাত জ্বরে : একটি হতিশুড়া গাছে বেটে তার রস দশ গ্রাম পরিমাণ খেলে সন্নিপাত জ্বর নিরাময় হয়।

ব্রণে : বয়সে ব্রণ প্রায় অধিকাংশ যুবক যুবতির মুখে দেখা য়ায়। ভালো হয়ে গেলেও গালে কাল কাল দাগ পড়ে যায়। মুখের শ্রী বিনষ্ট হয়। হাতিশুড়া পাতা ও তার কচি ডাল বেটে দুপুরে গোসল করতে যাবার এক ঘন্টা আগে ব্রণের ওপর প্রলেপ দিলে ব্রণ সারে এবং নতুন করে আর ব্রণ হয় না।

Tuesday, March 4, 2014

আমলকী দিয়ে রোগের চিকিৎসা

আমলকী বেশ বড় ধরনের গাছ। আবহাওয়ার গুনের কারণে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন উচ্চতা লাভ করে। আমলকীর  পাতা দেখতে তেতুলের পাতার মত। আমলকী একটি জংলি গাছ। এই জংলি আমলকী দিয়ে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা হয় যা আমরা অনেকেই জানি না।



রোগের চিকিৎসায় আমলকী: আমলকী একটি ওষুধি গাছ। এর গুনাবলীর শেষ নেই। কিছু গুরুত্বপূর্ন রোগের জন্য আমলকীর কিছু গুনাবলী নিম্নে দেওয়া হল।

কোষ্ঠবদ্ধতায়ঃ আমলকী, হরীতকী, বহেড়া এ তিনটি প্রতিটি 4 গ্রাম পরিমাণ আগের দিন সন্ধ্যা নাগাদ ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে রেখে পরের দিন সকালে খালিপেটে খেলে কোষ্ঠ পরিষ্কার হয়। এছাড়াও বায়ু, পিত্ত ও কফ এ তিনটি রোগও দুর হয়।

অম্লরোগঃ অম্লরোগে প্রতিদিন সকালে 6 গ্রাম পরিমাণ আমলকী পাতার রসে চিনি এক চামচ মিশিয়ে খেলে অম্লরোগ চিরতরে ভালো হয়ে যায়।

বহুমুত্র রোগঃ আমলকী গুড়া 3 গ্রাম,  চায়ের চামচের 1 চামচ মধুর সাথে মিশিয়ে খেলে বহুমুত্র রোগের উপকার হয়। তবে মধু নিম ফুলের, আমের অথবা কাল জামের হওয়া দরকার। কারণ এ তিন ফুলের মধু বহুমুত্র রোগের উপকারী বস্তু।

চোখ ওঠাঃ চোখ ওঠা রোগ কাচা আমলকীর রস দুফোটা করে সারা দিনে দুবার চোখে দিলে চোখ ওঠা ভালো হয। তবে তিন দিন দেয়া দরকার।

চুল ওঠে যাওয়াঃ যাদের চুল ওঠে যায়। তারা বিভিন্ন প্রকার দামী দামী শ্যাম্পু ব্যবহার করে। য়দি আমরা কাচা আমলকী বেটে গোসল করএত যাবার তিন ঘন্টা আগে মাথায় মাখলে চুলের গোড়া শক্ত হয় ফলে চুল ওঠা বদ্ধ হয়ে যায়।

মাথা ধরাঃ আমলকী বেটে তার সাথে সাদা চন্দন ঘষে ভালোভাবে মেখে সারা কপালে দিলে রোগী আরাম পাবে এবং মাথা ব্যাথা কমে যাবে।

নাক দিয়ে রক্ত পরাঃ যাদের নাকে দিয়ে রক্ত পরে তারা শুকনা আমলকী এর পানি দিয়ে পরিষ্কার শিলে বেটে তালুতে প্রলেপ দিলে রক্ত পরা কমে যাবে।

আমলকীর আরো অনেক গুনাবলী রয়েছে। আমলকীর গুনাবলী বা উপকারীতা অনেক। এখানে সামান্য কিছু আলোচনা করা হয়েছে।

Monday, March 3, 2014

অর্জুন গাছের উপকারীতা

বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি গ্রাম অঞ্চলে অর্জুন গাছ দেখা যায়। অর্জুন গাছ একটি তুলনামূলক ঔষুধি গাছ। এ গাছ দিয়ে বিভিন্ন প্রকার ওষুধ তৈরী হয়। আজ আপনাদের অর্জূুন গাছের দিয়ে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা কথা তুলে ধরব। অর্জন গাছ কে চেনার জন্য ক্লিক করুন।

বিভিন্ন অসুখে অর্জুন গাছের উপকারীতা :

প্রস্রাব বন্ধেঃ বিভিন্ন কারনে প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যায়। যদি কারো প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যায় তাহলে অর্জুন গাছের রস রোগীকে খাওয়ালে তার প্রস্রাব বাহির হয়ে যাবে।

রক্ত আমাশয়: আমরা রক্ত আমাশয়ের জন্য বিভিন্ন প্রকার দামি দামি ওষুধ ব্যবহার করি। অথচ হাতের কাছে অর্জুন গাছের ছাল ভালো করে বেটে ছাগলের দুধের সাথে মিশিয়ে খেলে ভালো হয়ে যায়।

যহ্মারোগ : যহ্মা রোগে প্রথমে অর্জুন গাছের ছালকে রোদে ভালোভাবে শুকিয়ে তারপর মিহি করে গুড়া করতে হবে। তারপর পরিষ্কার পাতলা কাপড়ে ছেকে বাসক পাতার রসে ভিজিয়ে আবার রোদে শুকিয়ে নিন। এভাবে বাসক পাতার রসে ভিজিয়ে মোট সাতবার রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। ঐ ‍গুড়া 3 গ্রাম পরিমাণ নিয়ে দু’চামচ মধু চিনির সাথে মিশিয়ে রোজ সকালে এবং সন্ধায় মোট দু’বার খেতে হবে। এ রোগে দীর্ঘ চিকিৎসায় প্রয়োজন হয়। কাজেই চিকিৎসককে অনেক দিন ধৈর্য্য ধরে চিকিৎসা করে যেতে হবে। রোগীকেও ধৈর্য ধরতে হবে।

লো-ব্লাডপ্রেসারে:  কাচা অর্জুন গাছের 10 গ্রাম ছাল 500 মিলিলিটার গরুর দুধে ফুটিয়ে 200 মিলিলিটার পরিমাণ থাকতে আচ থেকে পাত্র নামিয়ে নিতে হবে। মাত্র 7 দিন একবার করে খেলে রক্তের চাপ স্বাভাবিক হবে।

মেচতার দাগঃ যৌবন বয়সে ব্রণ এবং বয়সকালে লিভার দুর্বল হয়ে গালে কাল ছাপ ধরে। এ দাগকে আমরা চলতি কথায় মেছতা বলে থাকি। অর্জুন গাছের ছাল মিহি করে গুড়িয়ে সে গুড়া মধুর সাথে মেখে খাবার তিন ঘন্টা আগে গালে লাগালে মেচতা দাগ উঠে যাবে। তবে দিনকতক নিয়মিত প্রযোগ করা দরকার।

এছাড়া অর্জুন গাছের ছাল যখন ওষুধ হিসেবে ব্যবহারে জন্যে সংগ্রহ করা হবে, সে ছাল যেন পূর্বদিক থেকে নেয়া হয়। কারণ সকালের রোদ পায় এমন গাছ এবং তাতে বেশি উপকার হয়।

Friday, February 28, 2014

হরিতকি গুনাবলী

হরিতকি গাছ বাংলাশেরে প্রায় সর্বত্রই দেখতে পাওয়া যায়। এ গাছ সচরাচর 40/50 ফুট উচু হয়। এর পাতাগুলো গোলাকার ডিমের মত, তবে কিছুটা লম্বাটে। জোড়া জোড়া পাতা সামনা সামনি সাজানো থাকে। ফুল আকারে ছোট এবং সাদা। চৈত্র থেকে বৈশাখ মাসের মধ্যে ফুল ফুটতে শুরু করে। তারপর ফল ধরে। শরৎকালে পাতা খসে পড়ে। শীতকালে পত্রহীন হয়ে যায়। হরিতকি চেনার জন্য ক্লিক করুন।

হরিতকি র গুনাবলী : আমরা অনেকেই হরিতকী খাই। হরিতকি গুনাবলী অনেকেই জানি না। আজ আমি আপনাদের হরিতকির গুনাবলী সম্পর্কে কিছু আলোচনা করবো।

  1. গুড়ের সাথে হরিতকি খাওয়ালে অর্শ, অম্ল, অজীর্ণ ও কোষ্ঠবদ্ধে উপকার হয়।

  2. ঘি এবং গুড়ের সাথে হরিতকি সেবনের পিত্ত শুল আরোগ্য হয়।

  3. বাতরক্তে গুড়ের সাথে হরিতকি পান সকল রকমের বাত রোগের উপশম হয়।

  4. অর্শ রোগে এক সাপ্তাহ হরিতকি গুড়া সকালে খেলে অর্শ রোগ ভালো হয়।

  5.  গাওয়া ঘি গরম করে এবং হরিতকি চুর্ণ সেবন করে তারপর উক্ত গরম ঘি সেবনে   দেহের লাবন্য বৃদ্ধির পায়।

  6. কফজ্বরে হরিতকি, চিরতা, পলতা গুলঞ্চ ও বাসকপাতা সমানভাগে নিয়ে মোট আধা সের পানিতে সিদ্ধ করে আধা পোয়া থাকতে নামিয়ে  নিয়মিত পান  করলে দুই একদিনের মধ্যে কফজ্বার ফালো হয়ে যায়।

  7. হরিতকি, আমলকি, পলতা নিমছাল, বহেড়া, সোদাল ও দ্রাক্ষা সমানভাবে নিয়ে আধা সের পানিতে সেদ্ধ করে আধা পোয়া থাকতে নামিয়ে তাতে 10 মিলি গ্রাম চিনি মিশিয়ে সেবন করলে অনেক পুরোতন জ্বর ভালো হয়।

  8. দাতের চিকিৎসায় আমলকি খুবেই গুরুত্ব পূর্ণ। হরিতকি বহেড়া, আমলকি, পলতা নিমছাল সমান ভাবে নিয়ে পানিতে সিদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে কুলুকুচি করলে সব রকমের দন্তরোগ সেরে যায়। দাতশূল হরিতকি, বহেড়া, আমলকি, মুথা ও কুড় এক সাথে মর্দন করে তারপর ঐ মিশ্রণ দিয়ে দাত ঘষলে দন্তশূল আরোগ্য হয়।

  9. হরিতকি দিয়ে মোরব্বা তৈরি করা যায়। মোরব্বা তৈরি নিয়মঃ কাচা হরিতকি গুলোকে ভালো করে পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নিতে হবে। তারপর লোহা শলাকা দিয়ে হরিতকি গুলোকে একে একে ভালো করে সিদ্ধ করতে হবে। পরপর পাচবার গরম পানিতে সিদ্ধ করে গরম পানি ফেলে দিতে হবে। ফলে হরিতকি কষ বেরিয়ে যাবে। তারপর চিনির রস িএ হরিতকি গুলো জ্বাল দিতে হবে। এর পর হরিতকি গুলোকে  কয়েকদিন চিনির রসে রেখে দিলে সুন্দর হরিতকি মোরব্বা তৈরি হবে।


এছাড়া হরিতকির আরো অনেক উপকারীতা বা গুনাবলী রয়েছে। এখানে মূলত বিশেষ কিছু কিছু রোগের চিকিৎসার জন্য যে গুনাবলী গুলো প্রয়োজন তা আলোচনা করা হয়েছে।

Wednesday, February 26, 2014

কলমি শাক এর গুনাবলী

আমাদের দেশে প্রায় প্রতিটি গ্রামে কলমি শাক চাষ করতে দেখা যায়। আমারা অনেকেই কলমি শাক পছন্দ করি আবার অনেকেই কলমি শাক অপছন্দ করি। আমরা অনেকেই কলমি শাক শুধু শাক হিসাবে খাই। অনেকেই জানি না কলমি শাক দিয়ে অনেক ধরনের রোগের চিকিৎসা করা যায়। আজ আপনাদের কলমি শাকের কিছু উপকারীতা বা গুনাবলী সম্পর্কে আলোচনা করব।

  1. আমাদের দেশে প্রসূতির স্তন্যদগ্ধ বৃদ্ধির জন্যে কলমি শাক এর ঝোল খেতে দেয়া হয়। এতে স্তন্যদগ্ধ বৃদ্ধি পায়।

  2. কলমি শাক হিষ্টিরিয়া রোগী ও মস্তিষ্ক বিকার গ্রস্থ ব্যক্তির জন্য বিশেষ উপকারী শাক।

  3. গ্রাম অঞ্চলে প্রায়শ বাড়িতে বসন্ত রোগ দেখা যায়। বসন্ত রোগীকে প্রথমেই কলমি শাক এর রস পান করালে বসন্তের গুটিগুলো শীঘ্রই বেরিয়ে পড়ে এবং এ রোগের বিষ কেটে যায়।

  4. ফোড়া পাকাতে কলমি শাক এর রস পান করলে দ্রুত পেকে যায়।

  5. আর্সেনিক ও আফিং দুটি বেশি পরিমানে খেয়ে শরীরের বিষক্রিয়ায় রোগী যদি বমি করতে শুরু করে তবে 35 থেকে 70 মিলিলিটার পরিমাণ কলমি শাক এর রস খাওয়ালে বিষক্রিয়া নষ্ট হয়ে যায়। তখন রোগীর মৃত্যু আশঙ্কা থাকে না।

  6. অনেক মহিলার স্তনে ফুসকা রোগ দেখা যায়। কলমি শাকে এর পাতা ভালো ভাবে বেটে সেটা গরম করে স্তনে লাগাতে হয়। ফুসকা পেকে গেলে কলমি শাক এর রস দিয়ে ধুয়ে দিতে হবে। তিন থেকে চার দিনের মধ্যে স্তনের ফুলা কমবে এবং শক্ত ভাবটা নরম হয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। তাছাড়া বসে যাওয়া দুধ তরল হয়ে বেরিয়ে আসবে।

  7. যাদের স্বপ্নদোষ ও বীর্য তরল তারা কলমি শাক এর রস 3 চামচ এবং অশ্বগন্ধার মুলের গুড়া দেড় গ্রাম গরুর এক কাপ দুধের মিশিয়ে রাতে শোবার সময় একবার করে খেলে বীর্য গাঢ় হবে এবং স্বপ্নদোষও বদ্ধ হবে।


কলমিশাক সম্পর্কে আরো বিশদ ভাবে জানতে ক্লিক করুন।

Thursday, February 20, 2014

গোলমরিচ দিয়ে রোগের চিকিৎসা

আমরা গোলমরিচ প্রতিনিয়ত খাই। কিন্তু অনেকেই জানিনা গোলমরিচ এর উপকারীতা। আপনাদের আজ গোলমরিচ এর উপকারীতা সম্পর্কে কিছু তথ্য দিব আশা করি কাজে লাগবে।

গোলমরিচ এর উপকারীতা বা গুনাবলী :

  1. * গোলমরিচের গুড়ো ঘি বা চিনি ও মধুতে মিশিয়ে চাটলে সব রকম কাশি  কমে।

  2. আমাশায় গোলমরিচ পানিতে মিশিয়ে খেলে উপশম হয়।

  3.  যাদের ঘুম ধরে না তারা দইয়ের সঙ্গে গোলমরিচ ঘষে চোখে কাজলের মত দিলে ঘুম আসে।

  4. পেট ফাপা, একটানা পেটের অসুখ বা পুরোনো পেটের অসুখে এবং পাকাশয়ের দুর্বলতায় গোলমরিচ খেলে উপকার পাওয়া যায়।

  5. দাতের ব্যাথা গোলমরিচ এর প্রলপ দিলে উপকার হয়।

  6. সর্দিতে শুকনো আদা উপকারী। কিন্ত গোলমরিচ সাধারণ সর্দিতে আরও বেশী উপকার দেয। যে সর্দিতে ভুগছেন তিনি যদি দুধের সঙ্গে গোলমরিচ ফুটিয়ে পান করেন তাহলে শারীরিক ব্যাধি কমবে।

  7. গোলমরিচ ও রসুন এক সঙ্গে পিষে খাওয়া প্রথম গ্রাসে যদি ঘি মিশিয়ে খাওয়া হয় তাহলে বাষুর উপশম হয়।

  8. পুরোন জ্বরে গোলমরিচ বিশেষ উপকারী।

  9. প্রতিদিন গোলমরিচ এর দুই থেকে তিনটি দানা  খেলে অনেক অসুখের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

  10. গোলমরিচ দিয়ে ফোটানো দুধ খেলে কাশি সারে।

  11. গোলমরিচ এর গুড়ো দই আর পুরোনো গুড় মিশিয়ে খাওয়ালে নাক থেকে রক্ত পড়া বন্ধ হয়।

  12. গোলমরিচ ও গন্ধক (কবিরাজি দোকানে পাওয়া যায়) মিহি করে পিষে ঘি দিয়ে ভালো করে মেড়ে নিয়ে গায়ে লাগালে এবং তার পরে রোদে গিয়ে বসলে চুলকানি সেরে যায়।

  13. গোলমরিচ এর গুড়ো তুলসী পাতার রস ও মধু মিশিয়ে খেলে ম্যালেরিয়া সেরে যায়।

  14. যাদের হজম শক্তি কম তারা টাটকা পুদিনা পাতা গোলমরিচ সৈবন্ধব লবণ হিং, আঙুর জিরা এই সব এক সাথে মিশিয়ে পিষে লেবুর সর মিশিয়ে খেলে হজম শক্তি বাড়ে এবং খাওয়ার রুচি বৃদ্ধি পায়।

তবে মনে রাখতে হবে যে প্রতিদিন টাটকা গোলমরিচ পিষে ব্যবহার করলে সুফল পাওয়া যাবে। অতিরিক্ত কিছুই ভালো নয়। গোলমরিচ ও মাত্রাধিক পরিমাণে খেলে শরীরের উপকার না করে ক্ষতিই করবে। কাজেই সঠিক পরিমাণ, অল্প পরিমাণ গোলমরিচ খেলেই সুফল পাওয়া যাবে।

গোলমরিচ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে  ক্লিক করুন।

Wednesday, February 12, 2014

আপেলের উপকারীতা



আমরা প্রায় নিয়মিত আপেল খাই। কিন্তু অনেকেই আপেলের উপকারীতা সম্পর্কে জানি না এবং  জানি না আপেলে কি কি গুনাবিল আছে। নিচে আপেলের উপকারীতা সম্পর্কে আলোচনা করা হল-----------

* আপেলে carbohydrate, sugar, folic acid, potassium, calcium, B vitamins, iron, magnesium, ও zinc আছে। যা শরীরে জন্য
খুবই উপকারী।
* আপেলে পেকটিন নামের ফাইবার আছে যা সহজে তরলে মিশে যায়|ফাইবার অন্ত্র নালিতে cholesterol জমতে দেয় না,
এবং শরীর থেকে cholesterol খরচ কমিয়ে আনে| এটি ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করতেও সাহায্য করে|
* এটি ব্লাড প্রেসার ও রক্তের glucose/ sugar নিয়ন্ত্রণ করে | coronary artery disease ও diabetes এর রোগীরা তাই এটি খেলে উপকার পান |
এটি হজমের জন্য উপকারী ব্যাকটেরিয়া তৈরীতে সাহায্য করে | তাই হজম শক্তি বৃধ্ধ্বি করে ও ঠিক রাখে।
* আপেলের খোসায় polyphenols নামক antioxidant আছে, যা কোষকে ধ্বংশ হয়ে দেয় না|
* আপেলে phenols আছে, যা LDL Cholesterol কমায় ও ভালো cholesterol HDL বাড়ায়|
* আপেলে পর্যাপ্ত boron আছে, যা হাড়কে শক্ত রাখতে সাহায্য করে ও ব্রেইনের স্বাস্থ্য ঠিক রাখে
* আপেলে আছে flavonoid, যা antioxidant, এটি রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করে, হার্টের অসুখ ও ক্যান্সার হতে রক্ষা করে
* আপেলে Quercetin আছে, যা একটি flavonoid, এটি বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার হতে শরীরকে রক্ষা করে|
এই পুষ্টি উপাদানটি free radical ধ্বংশ হতে রক্ষা করে| তাছাড়া এটি DNA ধ্বংশ হতেও রক্ষা করে|
Free radical ধ্বংশ হতে রক্ষা করার জন্য, বার্ধক্য জনিত রোগ, যেমন: Alzheimer’s হতেও এটি রক্ষা করে |
* আপেলে প্রচুর Phytonutrients, যেমন: ভিটামিন A, E ও beta carotene আছে| এগুলো ও free radical ধ্বংশ হতে,
ব্রেইনের অসুখ হতে বাধা দেয়, ফুসফুস ভালো রাখে ও শ্বাস প্রশ্বাস প্রক্রিয়া ভালো রাখে | ফলে শরীর অনেক রোগ
থেকে মুক্তি পায় , যেমন: হার্টের অসুখ , Diabetes ও Asthma , Parkinsonism , Alzheimer’s.
* অন্যান্য ফলের মত আপেলের চিনি রক্তের চিনির মাত্র বাড়িয়ে দেয় না| ফলে diabetes এর রোগীরা নিশ্চিন্তে
পরিমানমত আপেল খেতে পারেন |
* আপেল প্রথমত: খেতে খুবই সুস্বাদু, সহজে ক্ষুধা নিবারণ করতে এই ফলের জুড়ি নেই| আপেলে পর্য াপ্ত ক্যালরী আছে।
* এতে প্রচুর ফাইবার আছে, যা হজমের জন্য ভালো| তাই bowel পরিষ্কার রেখে, কোলন ক্যান্সার হতে দেয় না।
* আপেলে কোনো লবন নেই, তাই আপেল থেকে অতিরিক্ত লবন খাবার কোনো সম্ভাবনা নেই|
* আপেলে সামান্য ভিটামিন সিও আছে| তাই আপেল রোগ প্রতিরোধেও সাহায্য করে |
ভিটামিন সি তাড়াতাড়ি রোগ সারাতে সক্ষম|
* আপেল লিভার ও gall bladder পরিষ্কার রাখে, এর পাথর (gallstones) দূর করে বা ধ্বংশ করে
* আপেলের প্রচুর পানি আছে, তাই এটি পানিশুন্যতা দূর করে, তৃষ্ণা মেটায় ও শরীর ঠান্ডা করে|
* আপেল Gastric এর সমস্যা কমায়। আপেলের রস দাঁতের জন্য ভালো| কারণ ব্যাকটেরিয়া এর কারণে দাঁতের ক্ষয় হয়,
আপেলের রস ৮০% পর্যন্ত দাঁতের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংশ করতে পারে|
* জ্বর হলে তা কমাতে সাহায্য করে, তাই জ্বর এর রোগীরা আপেল খেলে ভালো বোধ করেন|
* আপেলের সাথে মধু মিশিয়ে খেলে তা কফ দুর করে|
* আপেল ডায়রিয়া হলে তা সারাতে সাহায্য করে|
* আপেল মাসেল টোন করতে সাহায্য করে ও ওজন কমায়